বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দুই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল)। বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি হলো খুলনায় ১১৫ মেগাওয়াট কেপিসি ইউনিট-২ ও যশোরের নোয়াপাড়ায় ৪০ মেগাওয়াট প্লান্ট। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
তথ্য অনুসারে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনার পর ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে গ্যারান্টিযুক্ত অফটেক ছাড়াই ‘নো ইলেকট্রিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে এসব প্লান্টের কার্যক্রম চলছিল। বিপিডিবির সঙ্গে আলোচনা সত্ত্বেও আনুষ্ঠানিক কোনো ক্রয় চুক্তি হয়নি। বিপিডিবি এসব কেন্দ্রের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা প্রকাশ না করায় ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে পিপিএ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত প্লান্টগুলো বন্ধ রেখেছে কেপিসিএল।
তথ্য অনুসারে, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৬৭ পয়সা লোকসান হয়েছিল। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৮ টাকা ৩৪ পয়সায়।
এদিকে ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৯ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৮ নভেম্বর। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কেপিসিএলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ পয়সা।
কোম্পানিটির ঋণমাণ দীর্ঘমেয়াদে ‘এ মাইনাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-থ্রি’। আয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। কোম্পানির ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)। ১৯৯৭ সালে দেশের প্রথম আইপিপি হিসেবে কেপিসিএলের যাত্রা শুরু। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১০ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৬৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৭৯। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকের কাছে ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৯ দশমিক ১৫, বিদেশী দশমিক ১০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ শেয়ার।